দূষণের অতিমারি ঠেকাবে কে
আমরা
কোভিডেও আছি, দূষণেও আছি। ভ্যাকসিন এলে হয়তো কোভিড-১৯ একদিন চলে যাবে। কিন্তু বায়ু
দূষণের ভ্যাকসিন কবে আসবে?
বায়ু
দূষণ ভারতের কতটা ক্ষতি করছে? ক্ষতির পরিমাণটা নেহাত কম নয়। একটি সমীক্ষা থেকে সম্প্রতি জানা গেছে যে, ২০১৯-এ,
সের্ফ বায়ু দূষণের কারণে ভারতে ১৬.৭ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারান। কোনও একটি দেশে, বায়ু
দূষণের কারণে মৃত্যুর এই সংখ্যাটা হল বিশ্বের সর্বোচ্চ। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষতির
পরিমাণটা ছিল ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বা, ২.৬ লক্ষ কোটি টাকা)। দেখা যাচ্ছে, কোভিড-১৯-এর
মতই বায়ু দূষণও এক অতিমারি। যা হয়তো কোভিডের চেয়েও মারাত্মক।
সমীক্ষাটি
করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভারসিটির
‘গ্লোবাল অবসারভেটরি অন পলিউশন অ্যান্ড হেল্থ, ইন্ডিয়ান কাউনসিল অফ মেডিক্যাল
রিসার্চ এবং পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া। ‘ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেল্থ’ জার্নালে
প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা পত্রটি।
গবেষকরা
বলেছেন, অকালে ১৬ লক্ষ মানুষের প্রাণ নিয়ে নিচ্ছে বায়ু দূষণ, যা কোভিড-১৯ সংক্রমণে
যত মানুষ এ দেশে মারা গেছেন তার চেয়ে বেশ কয়েক গুণ বেশি। গবষকরা বলেছেন, দূষণের কারণে
এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যু, ভারতের ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। তাই দূষণের পরিমাণ
কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তাঁরা। বলা
হয়েছে, এখন যে পরিমাণ বায়ু দূষণ ঘটছে ভারতে, দূষণের পরিমাণ যদি ভবিষ্যতে একই
থাকে, তা হলে আজকের শিশুরা ওই দূষণের মধ্যেই বড় হয়ে উঠবে। এবং বড় হয়ে ওঠার পর, তাদের
মধ্যে হার্টের অসুখ, ডায়েবিটিস, নিশ্বাসের কষ্ট দেখা দিতে পারে। তাছাড়া, এও দেখা গেছে
যে বায়ু দূষণ শিশুদের মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। ফলে ভারতের পক্ষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক
ভাবে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বায়ু দুষণ বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
গবেষকরা
দেখেছেন যে, সময়ের সঙ্গে ভারতে বায়ু দূষণের চরিত্রও বদলেছে। যেমন, বাড়ির ভেতরের দূষণ
কমেছে। ওই দূষণের প্রধান কারণ ছিল বাড়িঘরে জানলা ও হাওয়া চলাচলের অভাব এবং উনুনের ধোঁয়া।
বলা হচ্ছে, ইনডোর পলিউশন বা ঘরের মধ্যের দূষণের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৯০ সালের পর
থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪.২ শতাংশ কমেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে এটা মনে করা যেতে পারে যে,
রান্নাঘর থেকে যে বায়ু দূষণ ছড়ায়, তা অনেকটাই কমেছে। তার কারণ, এখন উনুন অনেক উন্নত হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে
জ্বালানিও বদলেছে। তাছাড়া, এও মনে করা যেতে পারে যে, এখন যে সব বাড়ি তৈরি হচ্ছে, সেগুলি
আগের তুলনায় বেশি খোলামেলা।
অন্য
দিকে, দূষণের মাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে বাড়ির বাইরে। দেখা গেছে, ওই একই সময়ের মধ্যে
বাতাসে ধুলিকণা বেড়ে যাওয়ার ফলে, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ১১৫.৩ শতাংশ। আর ওজোন গ্যাস
থেকে দূষণের কারণে মৃত্যু বেড়েছে ১৩৯.২ শতাংশ। গবেষকরা বলেছেন যে, বাইরে বায়ু দূষণের
মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ হল, গাড়ি, বাস ও ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের
ক্ষেত্রে কয়লার বাড়তি ব্যবহার।
বায়ু
দূষণ বাড়ার ফলে, মানুষের অসুখও বেড়েছে। তার ফলে, চিকিৎসার জন্য খরচের পরিমাণও। গবেষণা
পত্রে বলা হয়েছে, ২০১৯-এ বায়ু দূষণের কারণে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ভারতকে ব্যয় করতে হয়,
১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৮৮ হাজার কোটি টাকার একটু বেশি)।
বিশ্বে
কোভিড-১৯ অতিমারি দেখতে দেখতে এক বছর পার করে দিল। কোভিড-১৯ এক বছরে যতগুলি প্রাণ
নিয়েছে, তার বেশ কয়েক গুণ বেশি নিয়েছে বায়ু দূষণ। কিন্তু কোভিড-১৯ ঠেকাতে ভারতে যে
জরুরি তৎপরতা লক্ষ করা গেছে, বায়ু দূষণ রোধ করতে তার সিকি ভাগও লক্ষ করা যাচ্ছে না
কেন?
অনীশ
গুপ্ত

Comments
Post a Comment