সেল্ফি বলে দেবে আপনার হার্ট, রক্তচাপ কেমন আছে
মোবাইল
ফোন আছে? ‘সেল্ফি’ তোলেন? অভ্যাসটা যদি আপনার নাও থেকে থাকে, দু’একটা না হয় তুলেই
ফেলুন। নিদেন পক্ষে, কি করে তুলতে হয়, তা জেনে
রাখুন। কাজে আসবে।
‘ইয়োরোপিয়ানহার্ট জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, আপনার সেল্ফিই বলে দেবে আপনার
হার্টের অসুখ আছে কিনা। ছবিটা শুধু মেইল করে
পাঠিয়ে দিতে হবে আপনার ডাক্তারবাবুর কাছে। বাকি কাজটা মেশিন করবে। আপনার মুখ দেখে সে বলে দেবে আপনার হার্ট বা হৃদযন্ত্র
কেমন আছে।
এই প্রথম
দেখা গেল যে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের
মুখের চেহারা থেকে জানা যাচ্ছে তাদের হার্টের অবস্হা, বলেছেন চিনের গবেষক ঝে ঝেঙ। উনি সে দেশের একজন প্রথম সারির চিকিৎসা বিজ্ঞানী
ও সেখানকার ন্যাশনাল সেন্টার অফ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেজ-এর ডিরেক্টর।
বিজ্ঞানী
ঝে বলেছেন যে, তাঁদের ওই নির্ণয় পদ্ধতিটি আরও উন্নত করতে হবে। কিন্তু প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে কম্পিউটার মুখ দেখে
হার্টের অবস্হা সম্পর্কে একটা সঠিক ধরণা করতে পারছে।
এই প্রযুক্তির
সুফল হল এই যে, হাসপাতাল বা ক্লিনিকে আসার আগেই একজন রোগীর হার্টের অবস্হা সম্পর্কে
জানা যাবে, বলেছেন ঝে। তারপর চলতে পারে আরও
বিশদ পরীক্ষার কাজ।
তাছাড়া,
এই প্রযুক্তির সাহায্যে একটা গোটা জনসমষ্টির লোকজনের হার্টের অবস্হা কেমন, তাও সহজে
জেনে নেওয়া যেতে পারে। আর তার ভিত্তিতে নেওয়া
যেতে পারে আগাম ব্যবস্হা।
গবেষকরা বলেছেন যে, হৃদরোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তির মুখে তার ছাপ পড়ে। সেই লক্ষণগুলি কি, তা কম্পিউটার কে শিখিয়ে দেওয়া আছে। তাই একটি মুখের ছবি দেখলেই সে তার ভাণ্ডারে রাখা যাবতীয় তথ্য মিলিয়ে দেখে, বিশ্লেষণ করে, বলে দিতে পারবে, সেই ব্যক্তি আদৌ হার্টের অসুখে ভুগছেন কিনা, বা তাঁর অসুখ কত দূর গড়িয়েছে। ফলে, সাবধান হওয়া যাবে অনেক আগে থেকেই।
আরও জানা
গেছে যে, সেল্ফি থেকেই মাপা যাবে আপনার রক্তচাপ আর পাল্স রেট বা মিনিটে নাড়ির স্পন্দনের
হার। তবে সেটা স্থির চিত্র হলে হবে না। হতে হবে একটি সেল্ফি ভিডিও। এ কথা জানিয়েছে
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল।
বলা হয়েছে যে, স্মার্ট ফোন দিয়ে ভিডিওটি তোলা হবে, তাতে লাগান থাকবে এক বিশেষ যন্ত্র। সেটি থেকে আলো মুখের ত্বক ভেদ করে স্মার্টফোনের একটি সেনসরে ভিডিওর মাধ্যমে পাঠাবে রক্ত চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা থেকে জানা যাবে রক্তচাপের মাপ।
গবেষকরা
বলেছেন, রক্তচাপ মাপার প্রথাগত যন্ত্র একেবারে নির্ভুল রিডিং দেয়। আর সেল্ফি ভিডিও
থেকে পাওয়া হিসেব ৯৫-৯৬ শতাংশ সঠিক হয় বলে গবেষণায় দেখা গেছে। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে
কাজটা করা যায় অনেক তাড়াতাড়ি ও সহজে। ফলে এ ক্ষেত্রেও একটা জনসমষ্টির সদস্যদের মধ্যে
রক্তচাপের সমস্যা আছে কিনা তা জানতে এটি বিশেষ সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন গবেষকরা। মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে তাঁরা বলেছেন, সে দেশের অর্ধেক মানুষই সম্ভবত রক্তচাপের
শিকার। কিন্তু তাঁরা জানেনই না তাঁরা ওই অসুখে ভুগছেন কিনা।
তবে এই
প্রযুক্তি এখনও গবেষণার স্তরেই আছে। বাজারে আসতে এখনও তার সময় লাগবে বেশ কিছু দিন।

Comments
Post a Comment