গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলছে, গলবে
গ্রিনল্যান্ড নামটা শুনলেই, একটা বরফ-ঢাকা দেশ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। না, গ্রিনল্যান্ড কোনও স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ নয়। আর্কটিক ও আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝখানে, সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ। তার নিজস্ব সংসদ আছে, কিন্তু গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের তত্ত্বাবধানে চলে।
গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান এমনই এক জায়গায়, যেখানে বছরে দু’ মাস সূর্য ডোবে না। বলা যেতে পারে ২৪ ঘণ্টার বদলে দু’ মাসের একটা লম্বা দিন চলে সেখানে। তারই মধ্যে সেখানকার বাসিন্দারা জাগে, ঘুমোয়। সেখানে লোকসংখ্যায়ও খুব কম। ৬০ হাজারের মত। সেই দ্বীপের প্রায় পুরোটাই বরফে ঢাকা থাকত এক সময়। কোথাও কোথাও বরফের চাদর এখনও চার মাইল পুরু। বরফে ঢাকা একটা জায়গার রঙ প্রধানত সাদা হওয়ার কথা। কিন্তু তার নাম গ্রিনল্যান্ড বা সবুজ দেশ হল কেন, তার পেছনে একটা কাহিনী আছে।
নরওয়ের এক অভিযাত্রী ও আবিষ্কারক ৯৮২ সালে, আজ থেকে ১,০৩৮ বছর আগে, গ্রিনল্যান্ডে গিয়ে পৌঁছন। তাঁর নাম এরিক থরভাল্ডসন। কিন্তু তাঁর লাল চুল আর দাড়ির জন্য ‘এরিক দ্য রেড’ বা লাল এরিক নামেই বেশি পরিচিত হন তিনি। বরফে ঢাকা যে জায়গাটি এরিক আবিষ্কার করেন, সেখানে উনি বসতি গড়তে চান। তাই মানুষজনকে সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে, জায়গাটির নাম দেন গ্রিনল্যান্ড। যেন, সেটি সবুজে ঢাকা এক দেশ, যেখানে ফসল ফলবে দেদার। তাঁর কথা শুনে অনেক অভিবাসী সেখানে গিয়ে বসতি করেন। কিন্তু বরফের রাজ্যে টিকে থাকা ছিল কঠিন। তাই অনেকে পাত্তাড়ি গুটিয়ে ফিরেও যান।
কিন্তু সময়ের পরিহাস এমনই যে, সেই তুষার-শুভ্র গ্রিনল্যান্ড এখন খুব দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। এবং হয়ত একদিন প্রকৃত অর্থিই সবুজ হয়ে উঠবে। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই হাতের বাইরে চলে গেছে। সেখানে বরফ এতটাই গলে গেছে যে, বিশ্ব উষ্ণায়ন যদি এখন থেমেও যায়, গ্রিনল্যান্ডের বরফের আস্তরণ কিন্তু গলতেই থাকবে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে।
তাতে বলা হয়েছে, বরফ গলে যে পরিমাণ জল সমুদ্রে মিশছে, তুষারপাত থেকে সেই পরিমাণ বরফ তৈরি হচ্ছে না। গবেষকরা বলছেন, প্রতিবছর ৪৫,০০০ কোটি টন বরফ হারাচ্ছে গ্রিনল্যান্ড। তাঁরা দেখেছেন ২০০০ সাল থেকে বরফ গলার হারটা খুব বেড়ে গেছে।
কিন্তু সুদূর গ্রিনল্যান্ডে অতিমাত্রায় বরফ গলে গেলে আমাদের বা বঙ্গবাসীর চিন্তার কি আছে? কারণ একটা আছে ঠিকই। সেখানে বরফ দ্রুত হারে গলতে থাকলে, আমরা এখানে ডুবে যেতে পারি। কোটি কোটি টন বরফ, গলে জল হয়ে সমুদ্রে মিশলে, পৃথিবীর সব সাগর মহাসাগরে জল বাড়বে আর জনাকীর্ণ উপকূলের এক বিরাট অংশ তলিয়ে যাবে সেই জলে। গ্রিনল্যান্ডে বিপর্যয়ের ঢেউ আছড়ে পড়বে আমাদের অনেকের ঘরের আঙ্গিনায়।

Comments
Post a Comment