মাছেরা সব যাচ্ছে কোথায়
কিছু
দিন ধরে শোনা যাচ্ছে যে, পৃথিবীর বাজারে মাছের যোগান কমছে। বলা হচ্ছে অতি বেশি মাত্রায়
মাছ ধরার ফলে সমুদ্রে মাছ কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ,
যত না মাছ জন্মাচ্ছে তার ঢের বেশি ধরা হচ্ছে রোজ। এর ফলে মাছের ভান্ডার যে ক্রমশ খালি
হতে থাকবে তাতে আর আশ্চর্যের কী! কিন্তু যা সত্যিই রীতিমত আশ্চর্যর, তা হল যে বিপুল
পরিমাণ মাছ ধরা হয় প্রতি বছর তার ১০ শতাংশ ফেলে দেওয়া হয়। ওই ফেলে দেওয়া মাছের ওজন
শুনলে স্তম্ভিত হতে হয়। একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা থেকে জনা যাচ্ছে প্রতি বছর ১০ কোটি
টন মাছ ধরা হয় সমুদ্রে। আর তার মধ্যে স্রেফ নিম্নমানের বলে ফেলে দেওয়া হয় এক কোটি
টন। আর যখন সে সব মাছ আবর্জনা হিসেবে আবার সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হয়, তখন সেগুলির বেশির
ভাগই মৃত আর কিছু মৃতপ্রায়। জলে ফিরলেও যাদের আর বাঁচার কোনও সম্ভাবনা থাকে না। এই
পাহাড় প্রমাণ অপচয়ের কথা জানিয়েছে রয়টার।
২০০৫
সাল থেকে, ৩০০ গবেষকের সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে ইউনিভারসিটি অফ ব্রিটিশ কলোম্বিয়া
আর ইউনিভারসিটি অফ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে। সেটির নাম ‘দ্য সি অ্যারাউন্ড আস’ বা ‘আমাদের চারপাশের
সমুদ্র’। তাতেই বলা হয়েছে এই অভাবনীয় অপচয়ের কথা। বড় বড় কম্পানির বিরাট সব মাছ ধরার
জাহাজ প্রতিদিন সমুদ্রের গভীর থেকে তুলে নিচ্ছে টন টন মাছ। এক একটি জাহাজ যেন এক একটি
ভাসমান কারখানা। সেখানে মাছ ধরা, ঝাড়াই বাছাই, হিমঘরে মজুত করা সবই চলতে থাকে। সাধারণত,
মৎস্য কম্পানির জাহাজগুলি বিশেষ বিশেষ প্রজাতির মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত থাকে। জলে তাদের
নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছের সঙ্গে অন্য জাতের মাছ উঠে এলে, বাছাইয়ের সময় সেগুলি আলাদা
করে আবার সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।কিন্তু ততক্ষণে সেগুলি আর বেঁচে থাকে না। আবার, যে
মাছের জন্য জাহাজগুলি জাল ফেলে তার মধ্যে যেগুলি নির্ধারিত মানের নিচে হয়, সেগুলিও
অপ্রয়োজনীয় বলে ফেলে দেওয়া হয়। “এ এক বিপুল অপচয়,” বলা হয়েছে গবেষণাপত্রে।
কিছু
কাল আগে, ১৯৮৯ সালে, ওই অপচয়ের পরিমাণটা ছিল আরও বেশি - প্রায় ১.৩ কোটি টন। তবে গবেষণায় বলা হয়েছে যে বাতিল হয়ে যাওয়া মাছের
পরিমাণ কমে যাওয়ার একটা কারণ এই হতে পারে যে সমুদ্রে মাছ ইতিমধ্যে কমতে থাকায় জাহাজগুলির
জালে মাছই উঠছে কম। বলা হয়েছে, যে সব দেশ এইভাবে মাছের অপচয় সবচেয়ে বেশি ঘটাচ্ছে, সেগুলির
মধ্যে আছে রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও চিন।

Comments
Post a Comment