আমেরিকায় রহস্য বীজ কারা পাঠাচ্ছে
আপনার চিঠির বাক্সে একটা প্লাস্টিকের প্যাকেট দেখে একটু আশ্চর্য
হলেন আপনি। তারপর, প্যাকেটটি সেখান থেকে বার করে যা দেখলেন তাতে আপনার বিস্ময় দ্বিগুণ
হল। কারণ, আপনাকে কে বা কারা পাঠিয়েছে কিছু গয়না – কানের দুল, হাতের আংটি বা ওই ধরনের
কোনও অলঙ্কার। কিন্তু সে রকম কিছু অর্ডার করার কথা তো আপনার মনে পড়ছে না।
এবার, কৌতূহল মেটানর জন্য প্যাকেটটি সন্তর্পনে খুলে দেখতে গিয়ে
তাজ্জব হয়ে গেলেন আপনি। প্যাকেটের ভেতর অলঙ্কার কই? যা আছে, তা তো একটি ছোট প্যাকেট
ভর্তি কিছু বীজ!
হ্যাঁ, বীজ। এমন করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু রাজ্যে
অনেক বাড়ির চিঠির বাক্সে এসেছে রহস্যময় বীজ। কিসের বীজ, কারা পাঠাচ্ছে, কেন পাঠাচ্ছে,
কিছুই জানা যায়নি এখনও। কারওর কাছে এসেছে ছোট ছোট কালো দানা। কেউ পেয়েছেন লাউয়ের বীজের
মত চ্যাপ্টা বড় বীজ। মোট কথা, প্যাকেট-প্রেরিত বীজগুলির বৈচিত্র্য আছে। ব্যাপারটা এমনই
রহস্যে ঘেরা যে, মার্কিন কৃষি দফতর সতর্কতা জারি করেছে।
তাঁরা বলেছেন, কেউ যেন ভুলেও ওই সব বীজ মাটিতে না ছড়ান। কারণ,
আশঙ্কা হল, সেগুলি বিজাতীয়, আগ্রাসী গাছের বীজ হতে পারে। আর সেগুলি থেকে আগ্রাসী গাছ
ছড়িয়ে পড়ে ক্ষতি করতে পারে স্থানীয় গাছপালার। এমনকি সমগ্র কৃষি ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত
করে দিতে পারে তারা, এমনই আশঙ্কা।
এই কোভিড-১৯-এর অতিমারির দিনে, নভেল করোনাভাইরাস অসুখ ছড়ানর
সঙ্গে সঙ্গে, সৃষ্টি করেছে এক সন্দেহের বাতাবরণ। নভেল করোনাভাইরাসের উৎস চিন। সেখানকার
উহান শহরের বাজার, নাকি গবেষণাগার থেকে ছড়ায় ওই ভাইরাস, তা এখনও নিশ্চিত জানা যায়নি।
এখন আবার রহস্যময় ওই বীজের প্যাকেটের গায়ে লাগানো লেবেলে রয়েছে চিনের উল্লেখ। তেমনটাই জানা গেল ‘দ্যকাটস’ ওয়েবসাইট থেকে। তারই ভিত্তিতে মার্কিন কৃষি দফতর সন্দেহ প্রকাশ করেছে যে, ওই
বীজগুলি চিন থেকে এসে থাকতে পারে। কিন্তু দ্য কাটস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিন সেই সম্ভাবনার
কথা উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, লেবেলগুলি নকল।
মার্কিন উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ কেভিন ওঙ্গ, যিনি সে দেশের ‘টেক্সাস
প্লান্ট ডিজিজ ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটারির ডিরেক্টর, এই ঘটনায় বেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উনি বলেছেন, বীজগুলি কিসের তা জানা নেই। সেগুলি ক্ষতিকারক আগাছার
বীজ হওয়ার সম্ভাবনা উনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। আর যদি তাই হয়, তা হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
কৃষি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে সেগুলি একটা বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন ওঙ্গ।
অন্যদিকে ‘ভয়েস অফ আমেরিকা নিউজ’ বলেছে যে, মার্কিন আধিকারিকদের
একাংশের মতে এটি হল এক ধরনের প্রচলিত ইন্টারনেট জালিয়াতি। দেখা গেছে, অনেক সময়, কোনও
একটি কম্পানি, কোনও অর্ডার ছাড়াই, অনেক ব্যক্তির কাছে ভুয়ো সামগ্রী পাঠাতে থাকে। তারপর
নিজেদের ওয়েবসাইটে নিজেদের তৈরি দ্রব্য ও কম্পানি সম্পর্কে প্রশংসাসূচক রিভিউ লিখে
তার পাশে ওই ব্যক্তিদের নাম ঠিকানা বসিয়ে দেয়। ওই আধিকারিকদের মতে এটিও ওই ধরনের একটি
আন্তর্জাতিক জালিয়াতির ঘটনা, যা আন্তর্জালের দুনিয়ায় ‘ব্রাশিং স্ক্যাম’ বলে পরিচিত।
আশা করা যায়, অচিরেই এই বীজ রহস্যের সমাধান হবে। এবং জানা যাবে
যে, এটি কোভিডের আলোয় সন্দেহের বীজ বোনার প্রয়াস নাকি প্রকৃত জৈব হানাদারি।

Comments
Post a Comment