স্থলের প্রাণী না জলের প্রাণী, কে বেশি বুদ্ধিমান



যে সব শিকারি প্রাণী পৃথিবীর স্থলভাগে থাকে তাদের বুদ্ধি জলজ শিকারিদের থেকে কিছুটা বেশি। এমনই অভিমত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভারসিটির গবেষকদের। এমনটা হওয়ার কারণও তাঁরা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, স্হলবাসীদের মাথা খাটাতে হয় বেশি। তাই যুগ যুগ ধরে, মাথা খাটাতে খাটাতে, তাদের বুদ্ধি একটু একটু করে বেড়েছে বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে।
 
কিন্তু স্থলের প্রাণীদের বেশি মাথা খাটাতে হয় কেন? কারণ, সেখানে বাঁচতে হলে অনেক বেশি বাধা অতিক্রম করতে হয়। এক সময় স্থলভূমির অনেকটাই ছিল জঙ্গলে ঢাকা, বা ঘাসের অরণ্য, বা খোলা প্রান্তর। সেই সব পরিবেশে শিকার করতে চোখ-কান সর্বদা খোলা রাখতে হত। শিকার করার ছক কষতে হত ভেবেচিন্তে। যেমন, আলো-আঁধারিতে, গাছের আড়ালে, বড় বড় ঘাসের মধ্যে অথবা উন্মুক্ত প্রান্তরে শিকার ধরার বা শিকার করার পন্থাটি কী হবে, তা মাথা খাটিয়েই বার করতে হত। তাছাড়া কোথাও জমি সমতল, তো কোথাও উঁচু-নীচু, আবার কোথাও প্রতিকূল পর্বত। তারই মধ্যে আছে নদী, নালা, খাল-বিল। অর্থাৎ, স্থলের প্রাণীদের ক্ষেত্রে বাধার যেন কোনও শেষ নেই। আর বাঁচতে হলে সব বাধাকেই অতিক্রম করতে হয়। এবং তা করতে বুদ্ধি লাগে।  

সেই তুলনায় সমুদ্রের প্রাণীদের পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হয় না। উদ্ভিদ যা আছে তা সবই অনেক গভীরে, সমুদ্রের ভূপৃষ্ঠে। বাকিটা অনন্ত স্বচ্ছ জল। দৃষ্টি, গতি ব্যাহত করার মতো কোনও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক নেই সেখানে। তাই খুব বেশি ছক কষতে হয়নি কোনও দিন সমুদ্রের প্রাণীদের। 
কিন্তু সমুদ্রেও তো খুবই বুদ্ধিধর প্রাণীরা আছে, যেমন শুশুক বা তিমি। তারা বুদ্ধিমান হয়ে উঠল কি করে? গবেষকরা বলেছেন, তারা স্তন্যপায়ী প্রাণী, যারা এক সময় স্থলেই থাকত। সেখানেই তারা বাড়তি বুদ্ধি সঞ্চয় করে। তারপর এক সময় জলে গিয়ে বাস করতে শুরু করে।  

 


Comments

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস