পাঁচ বছরে পৌঁছে যাব ৩০ লক্ষ বছর পেছনে



আমরা কি এগোচ্ছি, না পিছোচ্ছি? ‘সভ্য’ মানুষ হল এমন এক প্রজাতি যারা এগোতে এগোতে পিছিয়ে যেতে পারে অনায়াসেকতটা পিছিয়েছি আমরা? একশ বছর, দুশো বছর? অনেকে বলছেন, আমরা আবার মধ্য যুগে ফিরে গেছি। কিন্তু মধ্যযুগ তো এই সেদিনের ফেলে আসা দিন। ওই কটা বছর ফিরে যাওয়া তো নেহাতই ছেলেখেলা। সেই মাইল ফলক কবেই পেরিয়ে গিয়েছি আমরা। সময়ের রথে বসে আমরা তো চলেছি আরও অনেক অনেক দূরের এক অতীতে। আমাদের গন্তব্য খুব দূরেও নেই আর। এখন থেকে আর মাত্র পাঁচটা বছর পরেই, ২০২৫ সালে, আমরা ফিরে যাব ৩০ লক্ষ বছর পেছনে
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৩০ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীর বায়ু মন্ডলে যে পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড ছিল, ২০২৫ সালে ঠিক ততটাই বা তারও একটু বেশি পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইডে আবার ভরে উঠবে এ গ্রহের বাতাসতিরিশ লক্ষ বছর আগে যে ধরনের বাতাস সেবন করত সে কালের প্রাণীরা, তেমনি এক অত্যধিক কার্বন ডাইঅক্সাইডে ভারাক্রান্ত বাতাস আমরাও নেব আমাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের মধ্যে দিয়ে।.
আমাদের শরীরের ওপর ওই বাড়তি কার্বন ডাইঅক্সাইডের কী প্রভাব পড়বে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে নাকিন্তু বাতাসে ক্রমশ বাড়তে থাকা কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ যে প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।
ইংল্যান্ডের সাউথ্যাম্পটন ইউনিভারসিটির একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ৩০ লক্ষ বছর আগে, সেই প্লিয়োসিন যুগে, পৃথিবীর বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা ছিল বেশ বেশি আর গড় উষ্ণতাও ছিল এখনকার চেয়ে ৩ ডিগ্রি ওপরে। তাঁদের ওই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার রিপোর্টস’ জার্নালে। অনুমান করা যায়, সে কালে পৃথিবীর পরিবেশ খুব একটা আরামদায়ক ছিল না। কিন্তু সভ্যতার রথে চড়ে এগোতে এগোতে সেই ৩০ লক্ষ বছর আগেকার পরিবেশেই ফিরতে চলেছি আমরা।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ক্যারিবিয়ান সাগরের তলায় অতি ক্ষুদ্র এক ধরনের প্রাণীর ফসিল বা জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। সেগুলির আয়তন একটা আলপিনের ডগার চেয়ে বড় হবে না। ‘ফোরামিনিফেরা’ বা শুধুই ‘ফোর‌্যাম’ বলে পরিচিত তারা। সেগুলিতে আছে বোরন নামের একটি এলিমেন্ট বা পদার্থ। সেগুলিকে বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে ৩০ লক্ষ বছর আগেকার পরিবেশের গুরত্বপূর্ণ সব তথ্য। জানা গেছে, সেই সময় পৃথিবী ছিল এখনকার চেয়ে ৩ ডিগ্রি বেশি গরম। আর সেই প্লিয়োসিন যুগের উষ্ণতম সময়কালে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ ছিল ৩৮০-৪২০ ‘পার্ট পার মিলিয়ন’ (পিপিএম) বা ১০ লক্ষ ভাগের ৩৮০ থেকে ৪২০ ভাগ। গবেষকরা বলছেন, সেই মাত্রাকে আমরা অদূর ভবিষ্যতেই ছুঁতে চলেছি। বর্তমানে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৫ পিপিএম। সভ্যতা বা মানুষের কর্মকান্ডের দৌলতে পরিমাণটা প্রতি বছর ২.৫ পিপিএম হারে বাড়ছে। সেই হিসেবে, ২০২৫ সালের মধ্যেই আমরা ৩০ লক্ষ বছর আগের প্লিয়োসিন যুগের কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা অর্জন করতে চলেছি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন সে কালে উষ্ণতার কারণে পৃথিবীর আবহওয়া বেশ অসহনীয় তো ছিলই, সেই সঙ্গে সমুদ্রে ছিল এখনকার তুলনায় অনেক বেশি জল।
গবেষকরা বলেছেন ৩০ লক্ষ বছর আগে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ, আর তার সঙ্গে যুক্ত আবহাওয়ার উষ্ণতা, মেরু অঞ্চলে বরফের স্বল্পতা, আর সমুদ্রে জলস্ফীতি, আগামী দিনে আমরা কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চলেছি, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।
   

Comments

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস