সাইবেরিয়া এখন কলকাতার চেয়েও গরম
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন যে, সাইবেরিয়ার জানা-ইতিহাসে অত গরম
এর আগে কখনও পড়েনি। ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, সমগ্র আর্কটিক অঞ্চলে
এটাই হল এখনও পর্যন্ত রেকর্ড তাপমাত্রা। ১৮৫৫ সাল থেকে পৃথিবীর নানা প্রান্তের তাপমাত্রা
নথিভুক্ত করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, এবারই প্রথম ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছল সাইবেরিয়ার
তাপমাত্রা।
লাইভসায়েন্সের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে, ভেরখোইয়ান্স
শহর রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে ৪,৮০০ কিমি দূরে। সে শহরের বাসিন্দার সংখ্যা ১৩০০।
আরও জানা গেছে যে, পৃথিবীতে যে সব জায়গায় তাপমাত্রা খুব বেশি কমে বাড়ে, তার মধ্যে ভেরখোইয়ান্স
হল একটি। শীতের সময় সেখানকার তাপমাত্রা কমতে কমতে হিমাঙ্ক ছাড়িয়ে মাইনাস ৪৯-৫০ ডিগ্রিতে
নেমে যায়। আর এখন, সেখানকার গ্রীষ্মের তাপমাত্রা উঠে যাচ্ছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পৃথিবীতে আর্কটিক অঞ্চলই
সবচেয়ে দ্রুত হারে উষ্ণ হয়ে উঠছে। তার ফলে সেখানকার বরফও গলছে অনেক বেশি পরিমাণে। আর
সেই তুলনায় শীতের মরশুমে বরফ জমছে কম। তাছাড়া, সাইবেরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে
‘পারমাফ্রস্ট’বা মাটির ওপর চিরস্থায়ী বরফের শক্ত চাদর, যা কখনও গলত না। কিন্তু
এখন গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই বরফ আর চিরস্থায়ী থাকছে না। সেও গলতে শুরু করেছে। তার
ফলে, সেই গলে-যাওয়া বরফের তলা থেকে বেরিয়ে আসছে কয়েক হাজার বছরের পুরনো সব গাছপালা
আর জীবজন্তুর অবিকৃত দেহাবশেষ। ঠিক যেন হিমঘরে সুরক্ষিত ছিল সেগুলি এতকাল।
সেই সঙ্গে বিজ্ঞানীরা একটি ঘোরতর আশঙ্কার কথা বলছেন। তাঁরা
মনে করছেন, পারমাফ্রস্টের ওই হিমঘরে এখনও ঘুমিয়ে আছে বহু যুগ আগের সব ভাইরাস। পারমাফ্রস্ট
গলতে থাকায়, তাদেরও ঘুম ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। হয়ত বা সেই
তুষার যুগ থেকে সাইবেরিয়ার বরফ-ঢাকা মাটিতে জমে কাঠ হয়ে আছে তারা। পারমাফ্রস্ট গলে
যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারাও যদি নড়ে চড়ে উঠে ভেসে পড়ে বাতাসে, তাহলে কি হবে? এক বাদুড়
থেকে ধেয়ে আসা নভেল করোনাভাইরাসই মানুষকে পথে বসিয়েছে। তার ওপর পারমাফ্রস্টের ভেতর
থেকে বেরিয়ে আসা এক ঝাঁক অজানা অচেনা ভাইরাস যে কতটা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে, তা কেউ
জানে না।
সাইবেরিয়ার একটা দিকের তাপমাত্রা কয়েক দিনের জন্য কলকাতাকে
ছাড়িয়ে যাওয়া, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, পৃথিবী এক ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে ক্রমশ
এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এ নিয়ে কতটা ভাবিত মানুষ? আদৌ কি শঙ্কিত তারা? মনে হয় না।
ছবি: ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ের একটি স্টেশন; সাইবেরিয়ার মানচিত্র
পিডি


Comments
Post a Comment