করোনা কাণ্ড: ইলদের জন্য ভিডিও
যত বারই ‘গার্ডেন ইল’রা বালি থেকে মাথা তুলে তাকায়, তত বারই
এক দল মানুষের মুখ দেখতে পায় তারা। অন্তত দু’মাস আগেও তাই হত। এখন আর তা হয় না। এখন
আর কেউ আসে না তাদের অ্যাকোয়েরিয়ামের কাছে।
জাপানের টোকিও শহরে তারা থাকে। এখন সেখানে নভেল করোনাভাইরাসের
উৎপাত চলছে। তাই মানুষের চলাফেরায় নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। আর সেই কারণে,
গার্ডেন ইলদের দেখতে তাদের অ্যাকোয়েরিয়ামের সামনে ভিড় হয় না এখন।
গার্ডেন ইল হল এক সামুদ্রিক প্রাণী। সাপ নয়, কিন্তু সাপের মত
লম্বা। ইল কয়েক ধরনের হয়। এই গার্ডেন ইল তাদের মধ্যে একটি প্রজাতি। তাদের বৈশিষ্ট্য
হল, তারা বালির মধ্যে ঢুকে থাকে, আর মাঝে মাঝেই বালি থেকে লম্বা গলা তুলে সব দিক দেখে
নেয়। তারা যখন এক সঙ্গে মাথা তোলে, তখন দূর থেকে মনে হয় লম্বা লম্বা ঘাস গজিয়েছে বাগানে।
তাই ওদের নাম হয়েছে ‘গার্ডেন’ (বাগান) ইল।
টোকিয়োর অ্যাকোয়েরিয়ামে কয়েকটি গার্ডেন ইল আছে বেশ কিছু কাল
হল। শহরের একটি বড় আকর্ষণ তারা। তাই, প্রায় প্রতিদিনই, মাথা তুলে তাকালেই তারা দেখত
নানা মানুষের মুখ। মানুষের ওই আনাগোনা তাদের ভাল লাগত কিনা জানা নেই। তবে ওই রুটিনেই
অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু করোনাভাইরাস তাদের জীবনও বদলে দিয়েছে। যে দিন থেকে
ওই ভাইরাস মানুষকে গৃহবন্দি করেছে, সেদিন থেকে সুনসান হয়ে গেছে তাদের কাঁচের ঘরের চারপাশ।
‘দ্য গার্ডিয়ান’ সহ একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে যে,
বিগত দু’মাসে তারা এক মানুষ-বর্জিত পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। যেমনটা হয়েছে
পৃথিবীর নানা প্রান্তে নানা প্রজাতির প্রাণী। এই কিছু দিন আগেও কাঁচের ঘরের মধ্যে থেকেও
তারা মানুষের সঙ্গেই কাটাত সারাটা দিন। কিন্তু এই দু’মাসে তারা ভুলতে বসেছে মানুষকে।
তাদের দেখাশোনা করেন যিনি, তাঁকে দেখেও বালির তলায় গা ঢাকা দিচ্ছে গার্ডেন ইলগুলি।
মানুষকে আবার ভয় পাচ্ছে তারা। যেন একটু একটু করে ফিরে যাচ্ছে তারা সমুদ্রের সেই মনুষ্যবিহীন
জীবনে।
গার্ডেন ইলদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগটা বজায় রাখাটা খুব জরুরি
মনে করছে অ্যাকোয়েরিয়াম কর্তৃপক্ষ। তাই টোকিওবাসীর কাছে একটা আবেদন করেছেন তাঁরা। বলেছেন,
নাগরিকরা যেন ৩-৫ মে ভিডিও কল করেন ঘন ঘন। যাতে কাঁচের ঘরের বাইর রাখা বড় স্ক্রিনে
সব সময় মানুষের মুখ দেখতে পায় ইলেরা। শুনতে পায় মানুষের গলা। আর সেই ভাবে কাটিয়ে উঠতে
পারে মানুষের প্রতি তাদের নতুন-করে জেগে ওঠা ভয়।
পিডি

Comments
Post a Comment