আলোগুলো নিভিয়ে দাও, আমাদের লাগছে




একটা সময় ছিল - হয়তো বা এখনও আছে - যখন বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানোর ভয়ঙ্কর একটা উপকরণ ছিল আলো।  তীব্র আলোর মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা তাদের বসিয়ে রাখাই ছিল নির্যাতনের পদ্ধতি।  দিবারাত্রি আলোর ঝলকানি সহ্য করতে না পেরে শারীরিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ত অনেকেই।  তারপর চলত স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা। 
  প্রকৃতির নিয়মেই, আলো আমরা সর্বক্ষণ সহ্য করতে পারি না।  দিনের কয়েকটি ঘন্টা আমরা প্রতিদিন আলো নিভিয়ে অন্ধকারে নির্বিঘ্নে ঘুমিয়ে কাটাতে চাই।  নিশাচরেরা ছাড়া, পৃথিবীর প্রায় সব প্রাণীই তাই চায়।  কারণ, সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন জীবনছন্দ বাঁধা।
  কিন্তু আমাদের শহরগুলি, যেখানে রাতভোর ঝলমল করে নানা রঙের কৃত্রিম আলো, সেখানে অনেক প্রাণীকেই নিঃশব্দে সহ্য করতে হয় আলোর বিরামহীন নির্যাতন।  শহরবাসীর পক্ষে প্রয়োজনীয় হলেও, রাস্তার আলো, দোকানের বাতি, বিজ্ঞাপনের রকমারি নিয়ন শহরের গাছেদের জীবন একেবারে দুঃসহ করে তুলেছে।  এমনটাই অভিমত কিছু বিজ্ঞানীর।  আর সেই সব গাছেদের সঙ্গে নিপীড়নের শিকার হচ্ছে সেই পাখিরা, যারা ওই  গাছের ডালে বসে ঘুমতে আসে সূর্য ডুবে গিয়ে সন্ধ্যা নামলে।  এবং শুধু গাছ আর পাখিরাই বা কেন, বলা হচ্ছে গাছের ওপর নির্ভরশীল বহু পোকামাকড় ও তার চেয়েও ক্ষুদ্র প্রাণী সব, তারাও রাতের আলোর দাপটে বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
  সম্প্রতি ইংল্যান্ডের এক্সেটার ইউনিভারসিটির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, শহর জুড়ে রাতের আলো গাছেদের বৃদ্ধি আর ফুল ফোটাকে বিশেষভাবে ব্যাহত করছে।  আর সেই সঙ্গে অনেক ধরনের ফল যা পাখি আর পোকামাকড়ের খাদ্য, তার ফলনও কমছে।  বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন এর প্রভাব ঠিক কতটা হানিকর আর সুদূরপ্রসারী হতে পারে তা এখনই পুরোপুরি অনুমান করা যাচ্ছে না।  তবে ব্যাপারটা যে মোটেই ভাল হচ্ছে না তা বোঝাই যাচ্ছে।     
পিডি        

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো হরমোন বাড়ায় কুকুর, বেড়াল

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস