লকডাউনে প্রকৃতির উৎসব



হিমালয়: ত্রিশূল পর্বত

মানুষকে বাদ দিয়ে, পৃথিবী জুড়ে এখন একটা উৎসব চলছে। এমন উৎসব অনেক কাল দেখেনি কেউ। আকাশ আবার ফিরে পেয়েছে তার নীল। কলুষ-বিহীন বাতাস এখন ফুরফুরে হাল্কা। দিনগুলো ঝলমল করছে নিখাদ সোনালী আলোয়। নদীতে  আবার প্রায় বর্জ্যহীন স্বচ্ছ স্রোত বয়ে চলেছে ।পশু-পাখি, গাছপালা, কীটপতঙ্গ সবাই যেন বহু যুগ পরে আবার উপভোগ করছে স্বাধীনতার ভুলে-যাওয়া স্বাদ। এমনকি, যাদের আমরা বলি নিষ্প্রাণ জড়, সেই মাটি, পাথর, বালি, তারাও যেন নিশ্চিন্তে আজ ঘুমিয়ে আছে পৃথিবীর বুকে।
  আজ প্রকৃতি যেন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে, কারণ মানুষ এখন গৃহবন্দি। একটা ভাইরাস তাকে বাড়ির মধ্যে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেছে। তাহলে কি এটাই মনে করতে হবে যে, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একটা শত্রুতা আছে? কারণ মানুষ যখন দাপিয়ে বেড়ায়, প্রকৃতি তখন বিপন্ন বোধ করে। এবং মানুষ যখন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে বাধ্য হয়েছে, তখনই সে ফিরছে নিজের ছন্দে।
  জানা গেছে, গঙ্গা এখন অনেকটাই দূষণমুক্ত। খবরে প্রকাশ হরিদ্বারে গঙ্গা এতটাই পরিষ্কার হয়েছে যে, তার জল নাকি স্রেফ ক্লোরিন দিয়ে পরিশুদ্ধ করেই পান করা যেতে পারে। দু’দিন আগে কলকাতার বাবুঘাটে শুশুকদের গঙ্গায় খেলতে দেখা গেছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, গঙ্গায় দূষণমাত্রা অনেকটা কমেছে বলেই শুশুকদের আবার দেখা যাচ্ছে। আরও জানা গেছে যে, লকডাউনের এক মাসের মাথায় কলকাতার বাতাস এতটাই দূষণমুক্ত হয়েছে যে, কেউই মনে করতে পারছেন না শেষ কবে এমনটা হয়েছিল।
  গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা তো প্রায় ৩৪ বছর ধরে চলছে। গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান নামে ওই প্রচেষ্টা আরম্ভ হয় ১৯৮৬-তে। ৩৪ বছরে, গঙ্গার শ্রী ফেরাতে ঢালা হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল জানায় যে, ১৯৮৬ থেকে ২০১৭’র মার্চ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭,০০০ কোটি টাকা খরচ হয় এই কাজে। তাছাড়া, ২০১৫-২০২০ সালের জন্য কেন্দ্র আরও ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তবুও ট্রাইব্যুনাল গঙ্গার অবস্থাকে শোচনীয় বলেই বর্ণনা করে ২০১৭’র জুলাই মাসে। তার মানে, সময় আর অর্থ দুইই জলে গেছে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।
  অথচ, গঙ্গার হাল ফেরাতে, প্রকৃতির সময় লেগেছে মাত্র এক মাস। খরচ : শূন্য। দাম একটা চোকাতে হয়েছে ঠিকই। সেটা হল নদীর দু পাশে কলকারখানা বন্ধ থাকার ফলে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, সেটা। তবে সব দিক বিচার করলে, লাভের পাল্লাটাই হয়তো ভারি হবে।
আসলে, উৎপাদন বন্ধ, তাই বর্জ্য বন্ধ, আর সেই কারণে  দূষণও বন্ধ।
  কিন্তু একদিন তো লকডাউন উঠবে। অনির্দিষ্ট কালের জন্য তো গৃহবন্দি থাকবে না মানুষ। সে তো আবার কাজে যা্বে। আবারও তো ঘুরবে কলকারখানার চাকা। ছুটবে গাড়ি। সে দিন কি তাহলে থেমে যাবে প্রকৃতির এই আনন্দ উৎসব। আবার কি বিষিয়ে উঠবে জল, হাওয়া? দিনের ঝাপসা আলোয় আবারও কি আত্মগোপন করতে বাধ্য হবে বিপন্ন প্রাণীর দল? নাকি প্রকৃতির কাছ থেকে এই শিক্ষা নিয়ে মানুষ এবার হাঁটবে নতুন পথে?
উত্তরটা পাওয়া যাবে আরও কিছুদিন পরে।পিডি 

করোনা বোমা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে, জাপানের দুই শহর, হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফেলে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সে কাজে সায় দিয়ে ছিল ব্রিটেন। অনেক দিনের, অনেক প্রচেষ্টার ফসল ছিল সেই বোমা। ভালবেসে সেটির নাম দেওয়া হয়েছিল, ‘লিটল বয়’ বা ‘ছোট্ট ছেলে’।
৬ আর ৯ অগস্ট ১৯৪৫’এ, সেই লিটল বয় আকাশ থেকে হিরোশিমা আর নাগাসাকির ওপর আছড়ে পড়লে, ১,২৯,০০০ থেকে ২,২৬,০০০ মানুষ মারা যান বলে মনে করা হয়। হিরোশিমাতে যে পরমাণু বোমা ফেলা হয়, তাতে ছিল ৬৪ কিলোগ্রাম ‘হাইলি এনরিচড ইউরেনিয়াম’ বা অতি-পরিশ্রুত ইউরেনিয়াম।
সেই তুলনায়, করোনা ভাইরাসের ওজন কত? ৬৪ কিলোগ্রামের চেয়ে কত গুন কম ওই ভাইরাসের ওজন? অঙ্কটা লিখতে গিয়ে কটা শূন্য বসাতে হবে একের পাশে? কত লম্বা হবে ওই সংখ্যার রেলগাড়ি? অথচ, ওই ভাইরাস দুটো অ্যাটম বোমার চেয়েও শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে নভেল করোনার আঘাতে মৃতের সংখ্যা হিরোশিমা ও নাগাসাকির হতাহতের হিসেবকে ছাড়িয়ে যাবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
ভাইরাস আগেও মহামারি সৃষ্টি করেছে। স্প্যানিশ ফ্লু, এশিয়ান ফ্লু, রাশিয়ান ফ্লুর মত অসুখ বারবারই বিপর্যয় ডেকে এনেছে দেশে দেশে। এবং ওই সব অসুখ সৃষ্টিকারী ভাইরাসদের আয়তন আর ওজন যা, তার নিরিখে, সব সময়েই মানুষের তৈরি মারণাস্ত্রের থেকে তারা ঢের গুন বেশি ক্ষমতাশালী বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
পিডি

চলুন, উহান যাই


নভেল করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চিনের উহান শহর এবার এক পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে। চিনের ‘অ্যাকাডেমি অফ সোশাল সায়েন্সেস’-এর পর্যটন বিভাগ এমনই এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সম্প্রতি। চিনের নাগরিকদের মধ্যেই উহানে বেড়াতে যাওয়ার উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
আজকের কোভিড-১৯ অতিমারি ওই উহান শহরের একটি বাজার থেকে ছড়ায় বলে জানায় চিন সরকার। চিনা পর্যটকদের কাছে দ্বিতীয় আকর্ষণীয় স্থান হল সে দেশের রাজধানী বেজিং। তৃতীয় স্থানে আছে চংকিং নামের এক জায়গা।
ওই রিপোর্টটির ভিত্তিতে খবর করেছে চিনের সংবাদ পত্র ‘চায়না ডেইলি’।
রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বের পর্যটন শিল্প এখন এক বিরাট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তবে চিনের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্প আস্তে আস্তে চালু হচ্ছে আবার। কিন্তু বিদেশে বেড়াতে যাওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন না কেউ।
কোভিড-১৯ মানুষের চাহিদা বদলে দিয়েছে বলে দবি করা হয়েছে রিপোর্টটিতে। তাঁরা এখন স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন।
পিডি


Comments

Post a Comment

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস