পাহাড়ের রাজা তুষার চিতার রাজ্যে বিপদ



পাহাড়ের রাজা বলা হয় তাকে। সমস্ত মধ্য এশিয়ার ভয়ঙ্কর ঠান্ডা আর রুক্ষ পাহাড়ি, বিস্তৃত অঞ্চলকে সে যেন শাসন করে। কিন্তু অসাধারণ দেখতে ধূসর রঙের বিরল এই তুষার চিতাবাঘ বা স্নো লেপার্ডরাও আজ বিপন্ন। কারণ তার বাসস্হান, ওই অত্যন্ত দুর্গম কঠিন প্রাকৃতিক পরিবেশেও, হত্যাকারীরা পৌঁছে যাচ্ছে। এবং রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, কাজাখস্হান ভারত, ভূটান, নেপাল সহ মধ্য এশিয়ার ১২ দেশে এই লেপার্ডদের দেখা যায় বটে কিন্তু তাদের সংখ্যা কমেই চলেছে।
  এক তো স্নো লেপার্ডদের আবাসস্হলে গিয়ে স্হানীয় মানুষরা বসত গড়ছে। সেখানকার মুক্তাঞ্চল তাদের গবাদি পশুর চারণভূমি হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, এই লেপার্ডদের শিকার, মানুষও শিকার করছে। ফলে টান পড়ছে লেপার্ডদের প্রাকৃতিক খাদ্য ভান্ডারে। এখন তাই আইবেক্স, ব্লু-শিপ, মারমট ইত্যাদি তাদের প্রাকৃতিক খাদ্য ছাড়াও স্নো লেপার্ডরা গৃহপালিত ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, ইয়ক ছানা সবই শিকার করে বসছে। যার ফল হচ্ছে একবার স্হানীয় বাসিন্দাদের নাগালে পড়ে গেলে লেপার্ডের মৃত্যু অবধারিত হয়ে উঠছে।
  ঘন বড় লোমে ঢাকা প্রায় ৪/৫ ফিট এই স্নো লেপার্ড খুবই শক্তিশালী, লাফাতেও পারে খুব। তার দেহের তিনগুণ বেশি ওজনের প্রাণীকে সে অনায়াসেই শিকার করে। লাজুক প্রকৃতির এই প্রাণী সাধারণত খাড়া পাহাড়ে থাকতে ভালবাসে। তাদের সংখ্যা সাড়ে তিন থেকে সাত হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। এর বাইরে চিড়িয়াখানায় ৬০০- ৭০০ স্নো লেপার্ড আছে।
  জানুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি তাদের প্রজনন সময়। ২/৩ এর বেশি বাচ্চা দেয় না। বাঁচে সাধারণত ২০/২৫ বছর। মূলত ভোর ও সন্ধ্যে বেলা তারা সক্রিয় থাকে। তবে অন্য লেপার্ডদের মত তারা গর্জন করতে পারে না বলে তাদের দেখা পাওয়া বিরল।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ.অরজ

Comments

Popular posts from this blog

জল - চাহিদা বড়ছে, যোগান কমছে

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস