বাঁদর-খেকো ঈগল




বাঁদর-খেকো ঈগল! হ্যাঁ, ফিলিপিন্স-এ যাকে ১৮৯৬ সালে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন ইংরেজ প্রকৃতি-বিজ্ঞানী জন হোয়াইটহেড।  এবং প্রথম যখন তাকে দেখা যায়, সে বসেছিল তারই শিকার করা বাঁদরের ওপর।  তাই তখনই তাকে ‘মাঙ্কি ইটার’ বা বাঁদর-খেকো নাম দেওয়া হয়। তাকেই ১৯৯৫ সালে ফিলিপিন্সের জাতীয় পাখি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পৃথিবীর তাবৎ শিকারি পাখিদের মধ্যে সে বিরলতম।

  ফিলিপিন্সের একদম নিজস্ব এবং বর্তমানে মারাত্মকভাবে বিপন্ন এই ঈগলদের দেখা যায় কেবল সেখানকার লুজান, সামার, লাইট ও মিন্ডানাও, এই চারটি প্রধান দ্বীপে।  অবৈধ কাঠ কাটা এবং বন ধ্বংসের ফলে ফিলিপিন্সের ঈগলরা কোণঠাসা হতে হতে এখন মাত্র ৫০০ তে নেমে এসেছে।
  লম্বায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফিট এই প্রজাতির পেটের দিকটা সাদা। আর রয়েছে ঘন বাদামি রঙের দুটি ডানা। সেই ডানা দুটিও বিশাল, মেললে তার দৈর্ঘ্যই প্রায় ৭ ফিট।  এই ঈগলের ওজন হয় সাড়ে ৪ কেজি থেকে ৮ কেজি। এরাই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঈগল। তাদের বিচরণ ক্ষেত্র একেবারে সমতল থেকে প্রায় ৬০০০ ফিট উঁচু পাহাড়ি বনাঞ্চল।
  দেখা গেছে এক একটি দম্পতির এলাকা ৬০ থেকে ১৩০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত থাকে। ফিলিপিন্সের জঙ্গলে তারাই কিন্তু প্রধান শিকারি। তারা একবার জোট বাঁধলে বা জীবনসঙ্গী বেছে নিলে, সেই সম্পর্ক বরাবরের জন্য টিকে যায়।  প্রতি দু’বছর অন্তর একবার বাচ্চা দেয় তারা।
  তাদের নীলচে ধূসর বড় ঠোঁট আর লম্বা লেজ শিকার ধরায় বেশ সহায়ক হয়। এবং সেই শিকার ১০ গ্রাম ওজনের বাদড়ু থেকে ১৪ কেজি ওজনের হরিণও থাকে।  তাছাড়া সাপ, দৈত্যাকার ইঁদুর, পাখি, কাঠবেড়ালি, উড়ন্ত লেমুর সবই থাকে তাদের খাদ্য তালিকায়।  তারা বাঁচে প্রায় ৩০-৪০ বছর।
  মূলত বানিজ্যিক কাঠ ব্যবসার জন্য দ্রুত জঙ্গল সাফ হতে থাকায় তাদের বসতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া খনি অঞ্চলের দূষণ, কীটনাশক ইত্যাদির প্রভাবে তাদের প্রজনন স্বাস্থ্যও ভেঙে পড়ে। তাদের বিপন্নতা বাড়তে থাকায় ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড’র সাহায্যে ফিলিপিন সরকার এই ঈগলদের সংরক্ষণে উদ্যোগী হয়। ঘেরাটোপের মধ্যে তাদের কৃত্রিম প্রজননের চেষ্টাও সফল হয়েছে। কিন্তু পাহাড় অরণ্য থেকে তারা হারিয়েই যাচ্ছে। 
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, উইকিপিডিয়া

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ভালো হরমোন বাড়ায় কুকুর, বেড়াল

গাছেরা কি দেখতে পায়

এক চিলতে বাগানে হাজারও প্রাণীর বাস